1. admin@dainikbirchattala.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
দৈনিক বীর চট্টলাতে (অনলাইন পোর্টাল) চট্টগ্রাম জেলাসহ সকল উপজেলা এবং কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা ছবিসহ বায়োডাটা ইমেইল করুনঃ বার্তা কক্ষ ও যোগাযোগ: ০১৮৩৫০৬৪০৪০ ইমেইলঃ dainikbirchattala2020@gmail.com

স্বাস্থ্য খাতের তুলনায় ব্যাংক খাত বেশি ভঙ্গুর

  • আপডেট টাইমঃ সোমবার, ২৪ মে, ২০২১

কভিড ১৯ পরিস্থিতির কারণে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা ও কতটা ভঙ্গুর সেটি উঠে এসেছে। খাতটিতে অদক্ষতা, অনিয়ম, সরকারের বরাদ্দের অবহেলা রয়েছে। তবে দেশের স্বাস্থ্য খাতের তুলনায় ব্যাংক খাত আরো বেশি ভঙ্গুর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও দ্রুত খুলে দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) কর্তৃক আয়োজিত ‘বিআইডিএস ক্রিটিকাল কনভারসেশনস ২০২১: কভিড-১৯: লিংকিং ইকোনমিক অ্যান্ড হেলথ কনসার্নস’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, লকডাউন একটি চরম ব্যবস্থা। কিন্তু সবকিছু খোলা রাখব, আবার গণপরিবহন বন্ধ রাখা অবাস্তব ও অবৈজ্ঞানিক। কিছু ক্ষেত্রে বাস্তব কারণ ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিথিল করা হচ্ছে। এটি বৈপরীত্য তৈরি করছে। তাই ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ সংকেতের মতো লকডাউনে কোনো নাম্বারিং প্রথা করা যায় কিনা ভাবতে হবে। ব্যাংকগুলোর তারল্য, খেলাপি ঋণ (এনপিএল) ও মূলধন পরিস্থিতি ও সুশাসনের বিষয়ে এখনই কঠোরভাবে নজর দিতে হবে। এছাড়া করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্য খাত কতটুকু ভঙ্গুর তা দেখিয়ে দিয়েছে। করোনায় শিক্ষা খাতে বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়েছে।

পাঁচটি প্রশ্ন সামনে রেখে এবারের আলোচনাটি হচ্ছে জানিয়ে ড. বিনায়ক সেন বলেন, জীবন ও জীবিকা ভারসাম্য আনতে কর্মসূচিগুলোর মধ্যে পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে কিনা? হার্ড লকডাউন বা শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে গেলে ইউকে মডেলের কার্যকারিতা বাংলাদেশে প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে কিনা? আগামী ছয় মাসের মধ্যে তিন কোটি মানুষকে টিকা দিতে হবে, সেই টিকার পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে পারব কিনা? মানুষ কেন মাস্ক পরছে না? এবং প্রবৃদ্ধিভিত্তিক জিডিপি পুনর্মূল্যায়ন করে কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে কিনা?

গতকালের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক     বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, গেস্ট অব অনার ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান। প্যানেল আলোচক ছিলেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই কর্মসূচির পলিসি অ্যাডভাইজার আনির চৌধুরী।

অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, টিকার দুটি ডোজ নেয়া ৯৭ শতাংশ মানুষের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। দেশের এ করোনা মহামারী সময়ে সংকটে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমেই মোকাবেলা করা সম্ভব।

 

দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা করোনা পূর্ব অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু করোনা-পরবর্তী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য কোনো দেশেই প্রস্তুতি ছিল না। তবে এর মধ্যে বাংলাদেশ অনিশ্চয়তা ও অপ্রস্তুত অবস্থার মধ্যে থেকেও সর্বোচ্চ ভালো করছে।

একটি টিকার ওপর নির্ভর করা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, সব ধরনের সুযোগ কাজে লাগানো হয়েছে। টিকার উৎপাদন করতে পারলে টেকসই ব্যবস্থাপনা হবে। আমরা টিকার মধ্যবর্তী গ্যাপ ৮-১২ সপ্তাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছি। এটা ১৬ সপ্তাহে করার পরিকল্পনা করা হয়নি।

ড. মসিউর রহমান বলেন, ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদানের ক্ষমতা হ্রাস না করে এখানে সরকার একটু সহায়ক ভূমিকা নিয়ে বাড়ানো যেতে পারে। রেয়াতি ঋণ দিতে হবে। এ সময়ে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। তবে অনেক শিক্ষার্থীর ইন্টারনেট সুবিধা নেই। আবার অনেকের জন্য ইন্টারনেট খরচ বেশি। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার বিষয়টি ভাবনার প্রয়োজন।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, রাজনৈতিক অর্থনীতি ও ন্যায়বিচারকে বিবেচনায় নিয়ে নীতি কাঠামো ঠিক করতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশে করোনার পরীক্ষা সবচেয়ে কম। যদি পরীক্ষার হার বাড়ানো হতো, তাহলে সংক্রমণের মাত্রা জানা যেত। বাংলাদেশে করোনা পরীক্ষা অপর্যাপ্ত।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, আমাদের দেশে সব বড় বড় হাসপাতাল শহরে অবস্থিত। চিকিৎসকরাও শহরে অবস্থান করছেন। গ্রামের মানুষ চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা পায় না। তবে স্বাস্থ্যের এই যে অসমতা, এখানে সমতা ফেরাতে সরকার কাজ করছে। টিকা নিয়ে যে একটা কালো মেঘ আছে—এটা বলতে দ্বিধা নেই। টিকা পাওয়া নিয়ে জনমনে একটা ভীতি ও শঙ্কা বিরাজ করছে। চীন ও রাশিয়া থেকে টিকা আনার চেষ্টা চলছে। ফলে সেই শঙ্কাও কেটে যাবে।

 

ভালো লাগলে এই পোস্টটি শেয়ার করুন

এই কেটাগরির আরো খবর
© All rights reserved © 2021 dainikbirchattala.com
Theme Customized By BreakingNews